মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বিভাগ ভিত্তিক পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা

ভূমিকাঃ

পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যতকে সুবিন্যস্ত রুপে গড়ে তোলা। পরিকল্পনা বলতে একটি উদ্দেশ্য নিয়ে কোন কিছুর করার ইচ্ছাকে বুঝায়। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা একটি সচেতন ও পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের বিবিধ সম্পদকে সুবিবেচিত ও সুষ্ঠভাবে কাজে লাগিয়ে চাহিদা মাফিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মূলতঃ দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়। তেমনি ভাবে পাইকগাছা উপজেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য (২০১৪-২০১৯ খ্রিঃ) সময়ের জন্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রনয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

উদ্দেশ্যঃ

পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে উপজেলা পরিষদের নিজস্ব সম্পদ এবং সরকার হতে প্রাপ্ত অনুদান, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব আয় এবং হস্তান্তরিত বিভাগ সমূহের সম্পদ ও সহায়তা জনগনের চাহিদা মাফিক এবং প্রাধিকারের ভিত্তিতে সমন্বিত উপায়ে ব্যবহার করা। পাইকগাছা উপজেলার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে নিম্মরুপঃ

v       এলাকার জনগনের চাহিদা এবং জাতীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি এনে এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন।

v       পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুসারে সময়মত আহরিত সম্পদ ব্যবহার করে উপজেলা পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

v       জনগনের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সেবা সরবরাহের জাতি গঠন মূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে উপজেলা পরিষদের অংশীদারীত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা।

v      জনগনের প্রতিনিধির অংশগ্রহনে এলাকার উন্নয়ন প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

v      পরিকল্পিত সেবা ও সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে এলাকার শস্য, গবাদিপ্রাণি, পাখি, মৎস্য ও মানব সম্পদের উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়ন।

v      উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহনের সুযোগ তৈরী এবং সুযোগ গুলো গ্রহণে এলাকার জনগনের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

v      প্রতিটি ইউনিয়নের মধ্যে এবং ইউনিয়নের সাথে উপজেলা পরিষদের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।

লক্ষ্যঃ

পাইকগাছা উপজেলা পরিষকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মূলত পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রনয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে-

v             জনগনের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা।

v             স্থানীয় ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি করা।

v             জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করা।

v             খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা।

v             দ্রুত শিল্পায়ন করা।

v             সম্পদের সুষম বন্টন এবং

v             অর্থনৈতিক বৈষম্য দুরীকরণ।

বর্তমান সুযোগ সুবিধাঃ

পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অনেক ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। সুবিধা সমূহ সঠিক সময়ে, সঠিক স্থানে, প্রয়োগ করতে পারলে পাইকগাছা উপজেলা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধি হবে। সুবিধা সমূহ নিম্মরুপঃ

v             উপজেলা পরিষদের নিজস্ব আয়।

v             ভূমি হস্তান্তর করের ১% আয়।

v             এডিপির অর্থায়ন (সরকারী বরাদ্দ)

v             উপজেলা গর্ভন্যান্স প্রজেক্ট এর অর্থ।

v             টি,আর (সাধারণ)/কাবিখা (সাধারণ) এর অর্থ

v             এলজিএসপি-২ এর অর্থ

v             দাতা সংস্থার বিভিন্ন অনুদান।

v             বেসরকারী সংস্থার অনুদান।

v             অন্যান্য।

বাঁধা বা ঝুকি সমূহঃ

যে কোন কাজের ক্ষেত্রে একটি বাঁধা বা ঝুকি থাকতে পারে তেমনি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। বাঁধা বা ঝুকি সমূহ সারাদেশের জন্য হতে পারে আবার পাইকগাছা উপজেলায় হতে পারে। ঝুকি সমূহ নিম্মরুপঃ

v             সময়মত বরাদ্দ না পাওয়া।

v             রাজনৈতিক অস্থিরতা।

v             প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

v             উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃ বিভাগীয় সমন্বয়ের অভাব।

v             স্ব-স্ব দায়িত্ব পালনে গাফিলতা।

বাঁধা বা ঝুকি সমূহে কি কি কৌশল গ্রহণ করা হবেঃ

পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের বাঁধা আসতে পারে। বাঁধা গুলো দূরীকরণ করে পরিকল্পনা সমূহ বাস্তবায়ন করতে পারলে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের তথা প্রতিটি উপজেলা পরিষদ কাংঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে। ফলে আমাদের দেশ দ্রুততার সাথে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। বাঁধা মোকাবেলার কৌশল নিম্মরুপঃ

সময়মত বরাদ্দ পাওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন নিয়ম ও পদ্ধতি সমূহ অনুসরন করতে হবে।

উপজেলা পরিষদের নিয়মিত বাজেট প্রদান করতে হবে।

নিয়মমাফিক উপজেলা পরিষদকে অডিট করতে হবে।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে উন্নয়ন কাজ চালিয়ে নিতে হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য উপজেলা পরিষদকে সার্বক্ষনিক প্রস্ত্তত থাকতে হবে।

উপজেলা পরিষদের সকল দপ্তরের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্কের উন্নতি করতে হবে।

দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সকলকে আন্তরিক হতে হবে।

পঞ্চবার্ষিক (বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ ভিত্তিক) পরিকল্পনাঃ

বিভিন্ন বিভাগ

বিভিন্ন ইউপি

উপসংহারঃ

যে কোন উন্নয়নের জন্য চাই একটি বাস্তবমুখী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। আর এই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চাই সত্যিকারের উদ্যোগ ও সঠিক কর্মকৌশল নির্ধারণ। সেই সাথে কাজের প্রতি ভালবাসা ও জবাবদিহিতা। সর্বপরি উপজেলার হস্তান্তরিত ১৭ টি সেবাদান প্রতিষ্ঠান অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ও ইউনিয়ন পরিষদ সমূহের সত্যিকারের জনসেবার মানসিকতা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করনের মাধ্যমে উন্নয়নকে জনগনের দোরগোড়ায় পৌছানো তথা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য বদ্ধ পরিকর।এ জন্য উপজেলা গর্ভন্যান্স প্রজেক্ট পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রনয়নে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন সেবাদান কারী প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে সেতু বন্ধন রচিত হবে বলে বিশ্বাস করা যায়। এই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রনয়নে যথেষ্ট সময় পাওয়া যায় নাই বিধায় অনেক ভুলত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কমিটি মনে করে। উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই উন্নয়নের স্বার্থে রচিত এই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বইটির সূত্র ধরে আগামীতে আরও সুন্দর ভাবে এ জাতীয় পরিকল্পনা বই রচিত হবে। এজন্য সকল শুভানুধ্যায়ী এবং জনসেবকদের মূল্যবান এবং আন্তরিক পরামর্শ বিশেষভাবে প্রয়োজন। সেই সাথে পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল সরকারী, বেসরকারী জন প্রতিনিধি সহ সকল স্তরের জনগনের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ এবং সার্বিক সহযোগিতা একান্তভাবে প্রয়োজন। তবেই সফল হবে এই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সকল স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা।

সংযুক্তি