মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

চিংড়ি ঘের

মৎস্য অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানাযায়, খুলনা জেলায় ২১ হাজার ৬০১টি ঘেরে ৪৪ হাজার ৮৩১ হেক্টর, সাতক্ষীরা জেলায় ২৫ হাজার ৩৮১টি ঘেরে ৫৭ হাজার ৮৮৬ হেক্টর এবং বাগেরহাট জেলায় ২৭ হাজার ৪৯৯টি ঘেরে ৪৪ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হচ্ছে। পাইকগাছা উপজেলায় লবন পানির পরিমান বেশি থাকায় তেম কোন ফসল এখানে উৎপাদন করা যায়না। এখান কার প্রধান ফসল মাছ। তাই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে বানিজ্যিকভাবে চিংড়ি উৎপাদন বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে করলে আরও বেশি সুফল পাওয়া যাবে।একই সাথে দক্ষিণে ১৪ উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে বছরে ২৫৩ কোটি টাকা মূল্যের ৫ হাজার ৮শত মেঃ টঃ কাঁকড়া উৎপাদিত হচ্ছে। যা বিশ্বের ১৮টি দেশে বিমানযোগে রফতানি করা হচ্ছে।বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলোতে মোট ১৫ প্রজাতির কাঁকড়ার চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ১১ প্রকার কাঁকড়া নোনা পানিতে বাকি ৪ প্রকার কাকড়া সাধু পানিতে উৎপাদিত হচ্ছে। চিংড়ির চাষের পাশাপাশি পৃথক ঘেরে এ কাঁকড়ার চাষ করা হচ্ছে। স্বল্প বিনিয়োগ এবং কয়েক দফা ভাইরাস ও আইলা নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে এ অঞ্চলে কাঁকড়া চাষের চাহিদা বেড়েছে। খুলনা জেলায় ৩ হাজার ৯শত ৯৫টি ঘেরে বছরে ৩ হাজার ৬ শত ৩২ মেঃ টঃ, সাতক্ষীরা জেলায় ৩শত ৭টি ঘেরে ১ হাজার ৯শত ৮৬ মেঃ টঃ এবং বাগেরহাট জেলায় ৩৩৩টি ঘেরে ২৫০ মেঃ টঃ কাঁকড়া উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত কাঁকড়ার মূল্য ২শত ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এছাড়া বাগেরহাট জেলা সদর, ফকিরহাট, কচুয়া, রামপাল, মংলা, মোড়েলগঞ্জ, শ্মরণখোলা, খুলনা জেলার পাইকগাছা, কয়রা, সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, আশাশুনি ও তালা উপজেলায় কাঁকড়া ফ্যাটেনিং (মোটা তাজাকরণ) হচ্ছে। এ অঞ্চলের কাঁকড়ার চাহিদা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান হংকং মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, সুইজারল্যান্ড, ইউনাইটেড কিংডম, জাপান, সৌদি আরব, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড, মিশর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি দেশে এ অঞ্চলের কাঁকড়া রফতানি হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীন, হংকং, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড এ ২৯ লাখ ৪৩ হাজার ৮০৯ ডলার মূল্যের কাঁকড়া রফতানি হয়েছে। গত অর্থবছরে এসব দেশে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৪ ডলার এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৫ লাভ ৩০ হাজার ৪০৯ ডলার মূল্যের কাঁকড়া রফতানি হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো খুলনার পরিচালক মনোরঞ্জন মন্ডল জানান, চিংড়িতে লোকসান হওয়ায় অনেক চাষি বিকল্প হিসেবে কাঁকড়া চাষ বেছে নিয়েছে। চিংড়ি ঘেরের পাশেই খ- খ- জমিতে কাঁকড়া চাষ হচ্ছে।নিত্য খাবার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। সেই কারণে কাঁকড়া উৎপাদন খরচ কম। পাশাপাশি এ অঞ্চলের কাঁকড়ার চাহিদা বিভিন্ন দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু বলেন, ন্যাচারাল পণ্যের রফতানির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য উপকূলীয় এলাকায় লোনা পানিতে কাঁকড়া উৎপদন বাড়াতে হবে। এজন্য আগামীতে কাঁকড়া চাষের নীতিমালা তৈরি করা ও ব্যাংকিং সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, কাঁকড়া উৎপাদন করে চীন ও তাইওয়ান থেকে বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্বব। এই সূত্র জানায়, বিমানযোগে প্রতিদিন গড়ে ১০ মেট্রিকটন কাঁকড়া চীনে রফতানি হচ্ছে। মংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. লিয়াকাত আলী জানান, উপজেলার চিলা, চাঁদপাই, বুড়িরডাঙ্গা, সুন্দরবন ইউনিয়নে ব্যাপক ভিত্তিতে এবং মিঠেখালী ও সোনাইলতলা ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে কাঁকড়ার চাষ হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলার প্রায় দেড়শটি ঘেরে পৃথকভাবে শুধু কাঁকড়া মোটাতাজাকরণের প্রক্রিয়া চলছে। মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, মাংসের গুড়ো, ছোট মাছ, খৈল ও কুড়ো কাঁকড়ার খাদ্য হওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক কম এবং চিংড়ির চেয়ে বেশি লাভজনক। রোগ বালাই নেই ফলে ঝুঁকি কম। তিনি বলেন, প্রায় ২ হাজার লোক এই সেক্টরে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। বাগেরহাট সদর উপজেলার দক্ষিণ খানপুর কালীবাড়ি এলাকায় চিংড়ি চাষি সুভাষ চন্দ্র মন্ডল বলেন, এ অঞ্চলের চাষিরা শামুক ও ঝিনুক খাদ্য হিসেবে কাঁকড়ার ঘেরে ব্যবহার করছে।