মেনু নির্বাচন করুন

সরল খাঁ দীঘি

সরল খাঁ:  ইতিহাসে কিংবদন্তী হয়ে আছে অষ্টাদশ শতাব্দীতে বার ভূইয়াদের আমলে সরল খাঁ নামে এক বিখ্যাত জমিদার পাইকগাছা থানার মধ্যে বসবাস করতেন। সরল বান্দিকাটী গ্রামটি তাঁর স্মৃতি বহন করে। সরলের দীঘি যেটা এ অঞ্চলে ‘‘সরলের পুকুর’’ নামে খ্যাত। সরল দীঘিটি ষোল বিঘা জমির উপর। জমিদার সরল খাঁ ছিলেন অত্যন্ত জেদী প্রকৃতির মানুষ। প্রতাপশালী এই জমিদারের জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে মামলা মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য তিনি শেষ বার যখন যশোর যান, তখন তিনি পরিবারবর্গের কাছে বলে যান, যদি তিনি মামলায় হেরে যান, তবে তিনি আর বাড়ী ফিরবেন না। আর এর সাক্ষ্য বহন করবে তাঁরই পোষা কবুতর। সুখের বিষয় সরল খাঁ মামলায় জিতে যান এবং সেই আনন্দে উৎফুল্ল হওয়ায় তাঁর হাত থেকে কবুতর হাতছাড়া হয়ে যায় ও কবুতরটি  সোজা উড়ে বাড়ী চলে আসে। কবুতর দেখে সরল খাঁর স্ত্রী মনে করেন মামলায় স্বামীর হার হয়েছে, প্রিয়তম স্বামী আর কোন দিন বাড়ী  ফিরবেন না। সব হারিয়ে স্বামী যদি বাড়ী ফিরে না আসে তবে এত জীবন রেখে লাভ কি? তিনি পরিবারে সব কিছু নিয়ে আত্ম বিসর্জন দিলেন বাড়ীর পুকুরে। এদিকে সরল খাঁ বাড়ী ফিসে এসে দেখেন সব শেষ। তিনিও তাঁর ভুলের জন্য আত্মগ্লানীতে দগ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন পুকুরে। জানা যায় , স্থানীয় লোকজন সেই থেকে মাঝে মধ্যে সোনার নৌকা থালাবাটি ইত্যাদি ভেসে উঠতে দেখেন। একদিন একজন একটি সোনার থালা ভেসে উঠলে সেটা চুরি করতে যায়। সেখান থেকে নাকি তার কেউ কোনদিন সোনার নৌকা, থালাবাটি ভেসে উঠতে দেখেনি। সাদা সোনার রাজ্যে ঐতিহাসিক কীর্তি সরল খাঁর দীঘি নিয়ে এ রকম অনেক অলৌকিক গল্প ছড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে মনে করা হয় সরল খাঁ খানজাহান আলীর শিষ্যবর্গের একজন। এ অঞ্চলের মানুষের পানির কষ্ট নিবারনের জন্য সরল খাঁ তাঁর দলবল নিয়ে এটি খনন করেন। সেই থেকেই এটা সরল খাঁর দীঘি নামে পরিচিত। সরল খাঁকে খানজাহানের শিষ্য ভাববার কারণ গুলোর মধ্যে প্রধান হলো ইতিহাস খুঁজে খানজাহানের শিষ্যবর্গের নাম যা পাওয়া যায়, তাতে সবার নামের শেষে খাঁ দেখা যায়। যেমন-বুড়ো খাঁ, মুরাদ খাঁ, সরল খাঁ ইত্যাদি।

কিভাবে যাওয়া যায়:

খুলনা পািইকগাছা সড়কের একদম গাঁ ঘেষে এটি অবস্থিত।উপজেলা হইতে ভ্যান, ইন্জিন ভ্যান এবং মটরসাইকেল যোগে যাওয়া যায়।পাইকগাছা উপজেলা সদর হইতে সরল খাঁ দীঘির দুরত্ব ৩ কিঃমিঃ।


Share with :

Facebook Twitter